শাহ্ জামাল :
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওটা আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল এখন ভেড়ামারার রাজনীতিতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই, চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সাধারন জনগনের জন্য উন্নয়নমুলক কাজ করায় ফল পাচ্ছেন তিনি। জেলা পরিষদের সব টুকু উন্নয়ন বরাদ্ধের টাকা এবং ব্যাক্তিগত টাকা দিয়ে ভেড়ামারা উপজেলার প্রায় সকল মসজিদ, মাদ্রাসাতেই রয়েছে তার উন্নয়নের ছোঁয়া। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কে সামনে রেখে ভেড়ামারার মানুষ জোট বেঁঁধে তার জন্য মাঠে নেমেছে। আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী, সাধারন ভোটার, বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল শ্রেনী পেশার মানুষ তার জন্য একাট্রা হয়ে কাজ করছে। জনগন মনে করেন, আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে দলমতের উর্দ্ধে উঠে তিনি সকলের জন্য নিরাপদ ভেড়ামারা গড়ে তুলতে পারবেন। এবং উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবেন অবহেলিত ভেড়ামারা উপজেলা কে।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান। বাবা ইয়াকুব আলী মৃধা ছিলেন বলিষ্ট আওয়ামীলীগার। দলের সীমাহীন ক্রাইসিস মুহুর্তে দায়িত্ব পালন করেছেন কৃষকলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল। ১৯৮২ সালে আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের হাত ধরেই রাজনীতি শুরু। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিয়ার হল শাখার যুগ্ন সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক অঙ্গনে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। একই তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। এরপর লেখাপড়ার পাঠ শেষ করে চলে আসেন ভেড়ামারায়। তখন ১৯৯৬ সাল। দায়িত্ব পড়ে ভেড়ামারা উপজেলা যুবলীগের সভাপতির। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের রাজনীতিতে মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। তৎকালীন সময়ে কুষ্টিয়া-২ ভেড়ামারা-মিরপুরের সংসদীয় আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী মাহাবুব-উল আলমের একান্ত সহচর ছিলেন তিনি। ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুবলীগের দায়িত্ব পালন করে ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বও তিনি পালন করেন। ২০০৭সালে তিনি নির্বাচিত হন ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক। পৌর আওয়ামীলীগের দায়িত্ব নিয়েই সকল ওয়ার্ডের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৌর আওয়ামীলীগ কে ঢেলে সাজান তিনি। পরে তিনি ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতিও নির্বাচিত হন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কখনই তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। ২০১৭ সালে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের নির্বাচনের সময় তিনি তার পুরুস্কার পান। ভেড়ামারার ৪টি ওয়ার্ড এবং ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ভেড়ামারা ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসাবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন জাসদ নেতা ও মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ বেনু। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সরাসরি ভোটে সবার্ধিক ৬৮ টি ভোট পেয়ে আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল নির্বাচিত হন। পরে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনমানুষের কল্যানে কাজ করার সুযোগ পান। সে সময় জেলা পরিষদের বরাদ্ধের পাশাপাশি ব্যাক্তি বরাদ্ধ দিয়েও ব্যাপক ভাবে ভেড়ামারার উন্নয়নে অবদান রাখেন। মেধাবী এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ টাকা এবং বৃত্তি দিয়ে প্রশংসিত হন। সৎ রাজনীতিবিদ হিসাবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে উপজেলা জুড়ে। সততা, কর্মর্স্পৃহা, উদ্দ্যোমী, ন্যায় পরায়ন এবং ভেড়ামারা উন্নয়নে কাজ করার মানুষিকতার কারনে ভেড়ামারার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরা তার উপরই আস্থা রাখেন। ২০২২ সালে আবারো তিনি কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সম্প্রতি অনুষ্টিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলহাজ্ব কামারুল আরেফিন’র ট্রাক মার্কার পক্ষে নিরলস পরিশ্রম করে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল আলমের দৃঢ় সিদ্ধান্ত, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা কে সাথে নিয়ে নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব পালন করেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল। এসময় পুরো সংগঠন উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের সাথে সরাসরি কাজ করেন। নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে স্থানীয় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক গনজোয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং সাবেক চেয়ারম্যানদের ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনী মাঠে রাখেন। ভেড়ামারা পৌরসভার ৯জন কাউন্সিলর এবং ৩ জন সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরদের মধ্যে ১জন বাদে সকল কাউন্সিলরই ট্রাক মার্কার প্রচারনায় অংশ নেন। ফলে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হন কামারুল আরেফিন।
ভেড়ামারা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরোজ আলী মৃধা জানিয়েছেন, আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল তার সততা এবং যোগ্যতা দিয়ে, কর্মী সহ সাধারন মানুষ কে ভালোবেসে ঈষান্বিত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকেই প্রার্থী হিসাবে পেতে চাই দলীয় নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ এবং সাধারন মানুষ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব-উল আলম হানিফ এবং কুষ্টিয়া-২ ভেড়ামারা-মিরপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কামারুল আরেফিনের অত্যান্ত আস্থাভাজন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ভেড়ামারা উপজেলাকে আধুনিক ও মডেল একটি উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে পারবেন।
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের একজন সাংবাদিক সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গত ১০ মার্চ ভেড়ামারার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় পানবরজ এবং কৃষকের স্বপ্ন। আহাজারীতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রুপকার মাহাবুব-উল আলম হানিফ এবং কামারুল আরেফিন কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়ান। নগদ টাকা দিয়ে সহায়তা করেন তারা। আনুষ্টানিক উদ্বোধনের পর তাদের বিশস্ত প্রতিনিধি হিসাবে কৃষকদের নগদ টাকা তুলে দেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল। তিনি সার্বক্ষনিক কৃষকদের পাশে থেকে তাদের দুঃখ কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল বলেন, নেতাকর্মীদের অনুরোধেই তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ব্যাক্ত করেছেন। ইতোমধ্যেই ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। নেতাকর্মী এবং সর্ব সাধারন মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যদি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি উন্নয়ন, সুশাসন, সমৃদ্ধি এবং দূর্নীতিমুক্ত ভেড়ামারা গড়ে তুলবো।